Latest Past Events

বাংলাদেশ জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডের দ্বাদশ জাতীয় উৎসবের পর্দা নামল!

রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি) ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো ১২তম বাংলাদেশ জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াড-এর জাতীয় পর্ব। ২৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্কুল অলিম্পিয়াড এবং অনলাইন বাছাই পর্বের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রায় চারশো শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। সকাল ৮টায় শিক্ষার্থীদের প্রবেশের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া দিনব্যাপী এই আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে বিকেলে পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে।এবারের জাতীয় পর্বে মোট ৫৯ জন শিক্ষার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয় এবং তিনটি ক্যাটাগরির সেরাদের সেরা ৩ জনকে "চ্যাম্পিয়ন” খেতাব প্রদান করা হয়। প্রাইমারি ক্যাটাগরিতে এসএফএক্স গ্রিন হেরাল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রিয়াংশু ঋদ্ধি রায়, জুনিয়র ক্যাটাগরিতে একই স্কুলের ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারজানা মানহা এবং সেকেন্ডারি ক্যাটাগরিতে রাজুক উত্তরা মডেল কলেজের শিক্ষার্থী মাহির আরিব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। জুনিয়র ক্যাটাগরির চ্যাম্পিয়ন মারজানা মানহা জানায় যে সে এমআইটি-তে পড়ার স্বপ্ন দেখে এবং দুই বছর ধরে এই অলিম্পিয়াডের জন্য চেষ্টা করে এসেছে। অন্যদিকে, প্রাইমারি ক্যাটাগরির বিজয়ী খালিদ মোহাম্মদ নওশাদ আলী জানায় যে এবারের সমস্যাগুলো গতবারের তুলনায় বেশ কঠিন হওয়া সত্ত্বেও সে নিজের মতো করে সমাধানের চেষ্টা করে সফল হয়েছে।আয়োজনের কিছু উল্লেখযোগ্য দিক: সকাল ৯টায় শুরু হওয়া প্রায় ২ ঘণ্টাব্যাপী অলিম্পিয়াড পর্বে শিক্ষার্থীদের ৬টি সংক্ষিপ্ত ও ৩টি বিশদ সমস্যাসহ মোট ৯টি সমস্যা সমাধান করতে হয়। দুপুর ১২টায় অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষার্থীরা দেশের বিশিষ্ট বিজ্ঞানীদের কাছে নানা প্রশ্ন তুলে ধরে এবং খুদে বিজ্ঞানীদের এই প্রশ্নগুলোর প্রাণবন্ত উত্তর দেন উপস্থিত বরেণ্য শিক্ষক ও অতিথিরা। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইইউবিএটি-র উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুর রব, যিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন যে শিক্ষার্থীদের মধ্যেই অনেক প্রতিভাবান বিজ্ঞানী লুকিয়ে আছে এবং বিজ্ঞানই আসলে ভবিষ্যৎ। প্রখ্যাত জিন বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী তরুণদের শুধু এআই ব্যবহার করে নয়, বরং নিজেদের মেধা কাজে লাগিয়ে বেশি বেশি নতুন নতুন প্রশ্নের সমাধান বের করার আহ্বান জানান। জাতীয় পর্যায়ের বিজয়ীদের নিয়ে আগামী ৩১ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১২তম বিডিজেএসও জাতীয় অনাবাসিক ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হবে। এই ক্যাম্প থেকে টিম সিলেকশন টেস্টের মাধ্যমে বুলগেরিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য ২৩তম আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডের জন্য ৬ জনের বাংলাদেশ দল বাছাই করা হবে। এই অলিম্পিয়াডটি যৌথভাবে আয়োজন করেছে বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি (এসপিএসবি) এবং বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশন (বিএফএফ)। ন্যাশনাল হোস্ট হিসেবে আইইউবিএটি এবং প্লাটিনাম স্পন্সর হিসেবে আনিসুল হক ফাউন্ডেশন যুক্ত ছিল। বিস্তারিত ফলাফল এবং অন্যান্য তথ্য বিডিজেএসও-এর ওয়েবসাইট (www.bdjso.org) ও ফেসবুক পেজে পাওয়া যাবে।

রাজশাহীর শিক্ষার্থীদের নিয়ে এগিয়ে চলছে ১২তম বাংলাদেশ জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াড ২০২৬-এর প্রস্তুতি।

সম্প্রতি রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজ এবং রিভার ভিউ কালেক্টরেট স্কুলে অনুষ্ঠিত হয়েছে BdJSO 2026-এর প্রস্তুতি কর্মশালা। কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে BdJSO-এর বিভিন্ন ধাপ, অংশগ্রহণের নিয়ম, কীভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে এবং কী ধরনের প্রশ্ন আসতে পারে—এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।শুধু প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ নয়, বিজ্ঞানের বিষয়গুলোকে নতুনভাবে ভাবা, নিজের কৌতূহল থেকে প্রশ্ন করা এবং যুক্তি দিয়ে সমস্যার সমাধান করার অভ্যাস গড়ে তোলার বিষয়েও শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা হয়।এছাড়াও রাজশাহীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে BdJSO 2026-এর নিবন্ধন সম্পর্কে জানাতে এবং শিক্ষার্থীদের অলিম্পিয়াডে অংশ নিতে উৎসাহিত করতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দেশজুড়ে এখন চলছে ১২তম বাংলাদেশ জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াড ২০২৬-এর অনলাইন নিবন্ধন।বাংলাদেশের যেকোনো বিদ্যালয়ের তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং ২০১১ সালের ১ জানুয়ারি বা এর পর জন্মগ্রহণকারী SSC-২০২৬ পরীক্ষার্থী ও একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নিতে পারবে। নিবন্ধনের জন্য কোনো ফি নেই। নিবন্ধনের লিংক: https://online.bdjso.org রাজশাহীর স্কুলগুলো থেকে আরও অনেক শিক্ষার্থী যুক্ত হোক BdJSO-এর সঙ্গে। বিজ্ঞানের প্রতি কৌতূহল থেকেই শুরু হোক তাদের এই নতুন পথচলা।

সাভারের জিটিএফসি স্কুল এন্ড কলেজে আজ শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে ১২তম বাংলাদেশ জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াড ২০২৬-এর প্রস্তুতি কর্মশালা।

জিটিএফসি স্কুল এন্ড কলেজ, সাভার

বিজ্ঞানকে আরও কাছ থেকে জানা, নতুন কিছু অনুসন্ধানের আগ্রহ তৈরি করা এবং অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের চিন্তা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বিকশিত করার সুযোগ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের জানাতেই এই কর্মশালার আয়োজন। কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের সামনে বাংলাদেশ জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডের বিভিন্ন ধাপ, অংশগ্রহণের প্রক্রিয়া, প্রস্তুতির কৌশল এবং প্রতিযোগিতায় আসতে পারে এমন প্রশ্নের ধরন নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি বিজ্ঞানভিত্তিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের মেধা ও কৌতূহলকে কাজে লাগানোর জন্য শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা হয়। বর্তমানে পুরো দেশজুড়ে চলছে ১২তম বাংলাদেশ জনিুয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াড ২০২৬-এর অনলাইন নিবন্ধন। দেশের যেকোনো বিদ্যালয়ের তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং ২০১১ সালের ১ জানুয়ারি বা এর পর জন্মগ্রহণকারী SSC-২০২৬ পরীক্ষার্থী ও একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নিতে পারবে। কোনো নিবন্ধন ফি নেই। নিবন্ধনের লিংক: https://online.bdjso.org আজকের কৌতূহল থেকেই শুরু হোক আগামী দিনের বিজ্ঞানযাত্রা।