
আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াড (International Junior Science Olympiad – IJSO) হলো বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বিজ্ঞানভিত্তিক প্রতিযোগিতা, যা ১৬ বছর বা তার কম বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজন করা হয়। পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞান—এই তিনটি বিষয়ের সমন্বয়ে গঠিত এই অলিম্পিয়াড শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণী চিন্তা, গবেষণাধর্মী মানসিকতা এবং বাস্তব সমস্যা সমাধানের দক্ষতা যাচাই করে।IJSO শুধুমাত্র একটি প্রতিযোগিতা নয়; এটি শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং বৈশ্বিক বিজ্ঞানচর্চার একটি উন্মুক্ত মঞ্চ। লিখিত (Theory), ব্যবহারিক (Practical) এবং বহুনির্বাচনী (MCQ) পরীক্ষার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের জ্ঞান ও দক্ষতা মূল্যায়ন করা হয়।
বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও প্রস্তুতির গল্প
বাংলাদেশ প্রতিবছর আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি (SPSB)-এর তত্ত্বাবধানে। বাংলাদেশ দলের নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয় বাংলাদেশ জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াড (BdJSO) থেকে। স্কুল, আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ের একাধিক ধাপ পেরিয়ে শিক্ষার্থীরা কঠোর বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক দলের সদস্য হওয়ার সুযোগ পায়।এই নির্বাচনের পর শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজন করা হয় একাধিক আবাসিক প্রশিক্ষণ ক্যাম্প, মডেল পরীক্ষা এবং ব্যবহারিক অনুশীলন। দীর্ঘ কয়েক মাসের এই প্রস্তুতির লক্ষ্য থাকে শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতার জন্য মানসিক ও একাডেমিকভাবে প্রস্তুত করা।
IJSO 2025: রাশিয়ার সোচিতে বাংলাদেশের সাফল্য
২০২৫ সালে রাশিয়ার সোচি শহরে অনুষ্ঠিত হয় ২২তম আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াড (IJSO 2025)। এই আসরে বিশ্বের ২৪টি দেশের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। বাংলাদেশ দল এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করে ৬ জন শিক্ষার্থী, ৩ জন দলনেতা ও ১ জন অবজার্ভার নিয়ে।দীর্ঘ প্রস্তুতির ফলস্বরূপ বাংলাদেশ দল এই আসরে অর্জন করে ৬টি ব্রোঞ্জ মেডেল। এই অর্জন দেশের বিজ্ঞান শিক্ষায় ধারাবাহিক অগ্রযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন এবং ভবিষ্যতের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।
ভবিষ্যতের বিজ্ঞান নেতৃত্বের পথে
IJSO বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়; এটি ভবিষ্যতের বিজ্ঞানী, গবেষক ও উদ্ভাবকদের তৈরি করার একটি প্ল্যাটফর্ম। আন্তর্জাতিক এই অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে এবং বৈশ্বিক পরিসরে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তোলে।
সঠিক পরিকল্পনা, ধারাবাহিক প্রস্তুতি এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা যে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের জায়গা করে নিতে পারে—IJSO তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ।